BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১:০৩ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১:০৫

নবিউল ইসলাম: গণতন্ত্রে একজন মানুষের ভূমিকা কতখানি? একজন সৎ, আদর্শবাদী এবং জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তি কি একাই সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন, নাকি সেই পরিবর্তনকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজনৈতিক দলের সমর্থন ও সংগঠন অপরিহার্য? পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই প্রশ্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ, মানুষের মধ্যে আজও এমন নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, যিনি দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের কথা বলবেন, সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াবেন এবং ক্ষমতার কেন্দ্রকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। বর্তমান বিশ্বে যে ক’জন বিখ্যাত রাজনীতিবিদ আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স তাঁদের অন্যতম। এখন ৮৩ বছর বয়স। ছাত্র-জীবনে কার্ল মার্কসের দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন। আমেরিকায় কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ বলে কোনপ্রকার কমিউনিস্ট সংগঠন তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু মার্কসীয় দর্শনকে মন থেকে সরিয়ে রাখতেও পারেননি। শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে, নাগরিকদের সমানাধিকারে পক্ষে, যেকোন ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন। বার্নি স্যান্ডার্স নিজেকে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ বলে পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। নিজে ধর্মে ইহুদী, ফিলিস্তিনের পক্ষে মিছিলে হাঁটেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আমেরিকার বিশাল অংশের মানুষের কাছে তাঁর কাজের জন্য জনপ্রিয় হয়ে আছেন।

আরও পড়ুন:

বার্নি স্যান্ডার্স প্রমাণ করেছেন, একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের স্বার্থে ধারাবাহিকভাবে লড়াই করলে এবং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিনিধিত্ব করলে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যেও একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে পারেন। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর জীবন আরেকটি সত্যও সামনে আনে — ব্যক্তি যতই জনপ্রিয় হোন না কেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হলে কোনো না কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হয়। বার্নি স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি ছিল তাঁর ধারাবাহিকতা। তিনি ক্ষমতা অর্জনের জন্য আদর্শ বদলাননি; বরং আদর্শের কারণেই মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার অধিকার, শ্রমিকের মর্যাদা, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি কয়েক দশক ধরে একই অবস্থানে থেকেছেন। ফলে তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন, একটি রাজনৈতিক ধারণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিসরে তাকালে দেখা যায়, এখানে বহু জনপ্রিয় নেতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে উঠে এসেছেন। জ্যোতি বসু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদের রাজনৈতিক শক্তির পেছনে ছিল সংগঠিত দলীয় কাঠামো। ব্যক্তি নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই নেতৃত্বকে কার্যকর করার জন্য দল ছিল অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে একটি আকর্ষণীয় প্রশ্ন উঠে আসে। পশ্চিমবঙ্গে কি এমন কিছু ব্যক্তি ছিলেন বা আছেন, যাঁরা বার্নি স্যান্ডার্সের মতো এক ধরনের নৈতিক ও জনমুখী রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক হতে পারতেন? এই আলোচনায় তিনটি নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য — জহর সরকার, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস ড. নজরুল ইসলাম এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন:

জহর সরকার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় ভূমিকা এবং বিভিন্ন নীতিগত প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থানের কারণে একটি স্বতন্ত্র জনপরিচিতি গড়ে তুলেছেন। প্রশাসনের ভেতর থেকে রাষ্ট্রের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি জনজীবনের নানা বিষয়ে নির্ভীক মতামত প্রকাশ করেছেন। ফলে তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যাঁকে অনেকে বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস ড. নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সম্ভাবনা দেখা যায়। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সমাজ-রাজনীতি নিয়ে তাঁর লেখালেখি এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন প্রশ্নে সক্রিয় অবস্থান তাঁকে একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি প্রশাসনের বাস্তব চিত্র দেখেছেন, আবার একজন লেখক ও চিন্তাবিদ হিসেবে সেই অভিজ্ঞতাকে জনপরিসরে তুলে ধরেছেন। ফলে তিনি কেবল প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন; বরং জনজীবনের নানা প্রশ্নে হস্তক্ষেপকারী একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন। অন্যদিকে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা গড়ে উঠেছে মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কারণে। বিচারপতি হিসেবে বিভিন্ন আলোচিত মামলায় তাঁর ভূমিকা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলে। অনেকের কাছে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। জনপ্রিয়তা কি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমার্থক? উত্তর হল — না। বার্নি স্যান্ডার্সের শক্তি ছিল কেবল ব্যক্তিগত সততা নয়; তাঁর শক্তি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করা। তাঁর পেছনে ছিল সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠী, শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র আন্দোলন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি। পশ্চিমবঙ্গে জহর সরকার, ড. নজরুল ইসলাম বা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় — প্রত্যেকেই ব্যক্তিগতভাবে সম্মানিত এবং প্রভাবশালী হতে পারেন, কিন্তু তাঁদের কেউই এখনও একটি বৃহৎ, সুসংগঠিত ও দীর্ঘস্থায়ী গণআন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেননি। এখানেই রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব সামনে আসে। অনেকেই মনে করেন, একজন সৎ মানুষ রাজনীতিতে এলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। একজন ব্যক্তি হয়ত কয়েকশো বা কয়েক হাজার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্প বা সামাজিক নিরাপত্তার মতো বৃহৎ প্রশ্নে কাজ করতে গেলে প্রশাসনিক ক্ষমতা দরকার। আর সেই ক্ষমতার প্রধান পথ রাজনৈতিক দল।

আরও পড়ুন:

প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ই.ই. শ্যাটসনাইডার মনে করেন, “আধুনিক গণতন্ত্রকে রাজনৈতিক দল ছাড়া কল্পনা করা যায় না।”কারণ, দলই জনগণের দাবি ও রাষ্ট্রক্ষমতার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। দল ছাড়া ব্যক্তির ভাবনা প্রায়শই ব্যক্তিগত অবস্থান হিসেবেই থেকে যায়; দল সেই ভাবনাকে নীতিতে, কর্মসূচিতে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রূপান্তরিত করে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বৈশিষ্ট্য হল, এখানে সংগঠনের ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে খাদ্য আন্দোলন, নকশালবাড়ি, বামপন্থী উত্থান কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের বিকাশ — সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, সংগঠন ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সাফল্য সম্ভব হয়নি। তাই জহর সরকার, ড. নজরুল ইসলাম বা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা যদি জনস্বার্থভিত্তিক একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার নেতৃত্ব দিতে চাইতেন, তাহলে তাঁদেরও শেষ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, সংগঠন এবং গণভিত্তি গড়ে তুলতে হত। শুধু ব্যক্তিগত সততা বা জনপ্রিয়তা দিয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:

অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, ব্যক্তি গুরুত্বহীন। ইতিহাস দেখায়, বড় পরিবর্তন প্রায়শই একজন মানুষের স্বপ্ন, সাহস এবং উদ্যোগ থেকেই শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে সংগঠন। ব্যক্তি দিকনির্দেশনা দেন, দল সেই দিকনির্দেশনাকে সামাজিক শক্তিতে পরিণত করে। আজকের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই দলনিরপেক্ষ, নৈতিক এবং জনমুখী নেতৃত্বের সন্ধান করেন। জহর সরকার, ড. নজরুল ইসলাম বা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের ঘিরে আগ্রহের কারণও সেখানেই। তাঁরা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থেকে উঠে আসা কণ্ঠস্বর হিসেবে অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্রের বাস্তবতা হল, শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্য কাজ করতে হলে রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজন হয়। কারণ, রাজনীতি কেবল বক্তব্য বা জনপ্রিয়তার বিষয় নয়; এটি নীতি প্রণয়ন, প্রশাসন পরিচালনা এবং সামাজিক সম্পদের বণ্টনের প্রশ্নও। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে একজন ‘বার্নি স্যান্ডার্স’তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু তিনি কোনো একক ব্যক্তির জাদুতে তৈরি হবেন না। তাঁর প্রয়োজন হবে সুস্পষ্ট আদর্শ, দীর্ঘ সামাজিক সংগ্রাম, জনআন্দোলনের ভিত্তি এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক সংগঠন। জহর সরকার, ড. নজরুল ইসলাম কিংবা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় — প্রত্যেকের মধ্যেই সেই সম্ভাবনার কিছু উপাদান দেখা যেতে পারে। কিন্তু সম্ভাবনা আর বাস্তবতার মধ্যে যে সেতু রয়েছে, তার নাম সংগঠন। গণতন্ত্রে ব্যক্তি এবং দল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং পরিপূরক। ব্যক্তি স্বপ্ন দেখান, দল সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়। আর জনগণই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করেন কোন স্বপ্ন তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder