BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

সঞ্জয় গান্ধীর প্রয়াণের ৪৫ পর ফিরে দেখা অতীত আকাশপথে কীভাবে মারা গিয়েছিলেন ইন্দিরা-পুত্র?

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:৪৬ | আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:৪৬

বিশেষ প্রতিবেদন

(বিমানবন্দরে ১০ মিনিট, আকাশে ১২ মিনিট। রাজীব গান্ধীর মতোই সঞ্জয় গান্ধীও ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি ও বিমান চালনায় দক্ষ ছিলেন। কিন্তু নয়াদিল্লিতে স্টান্ট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ হারান। জীবনে তিনবার হত্যাচেষ্টার ছায়া, বিতর্কিত সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ এবং ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ ইতিহাসে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে তাঁকে। ১৪ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিনে তরুণ এই রাজনীতিবিদের ঘটনাবহুল জীবনের কিছু অনালোচিত ও অনালোকিত দিক সম্পর্কে লিখেছেন আবু হুরাইরাহ)

আরও পড়ুন:

১৯৮০ সালের ২৩ জুন, নয়াদিল্লি। সকালটা ছিল শান্ত, তবু ইতিহাসের এক অমোঘ অধ্যায়ের সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছোট ছেলে, সাবেক কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় গান্ধী মাত্র ৩৩ বছর বয়সে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁর এমন মৃত্যু একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের শুধু শোকের ঘটনাই নয়; বরং ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিতর্ক, ষড়যন্ত্র ও রহস্যের গভীর অধ্যায় হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে আছে।
সঞ্জয় গান্ধীর জীবন ছিল রাজনৈতিক উত্থান-পতনের এক মেলবন্ধন। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার আগে তিনি একাধিকবার হত্যাচেষ্টারও শিকার হন। কিন্তু কীভাবে ঘটেছিল রহস্যেঘেরা সেই বিমান দুর্ঘটনা? রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও অনেক সাধারণ মানুষের কাছে আজও এটি কৌতূহলী এক প্রশ্ন।
সঞ্জয় গান্ধীর জন্ম ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৬। তাঁর জন্ম হয় দেশের সবথেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে। প্রপিতামহ মতিলাল নেহরু ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও মহাত্মা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দাদু জওহরলাল নেহরু স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। মা ইন্দিরা গান্ধীও ছিলেন দেশের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী (১৯৬৬-৭৭ ও ১৯৮০-৮৪)। ভাই রাজীব গান্ধীও পরে প্রধানমন্ত্রী হন। সঞ্জয়কে তাঁর মায়ের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হত।
সঞ্জয় গান্ধীর সবচেয়ে সমালোচিত পদক্ষেপ ছিল ‘স্টপ অ্যাট টু’ নামে জন্মনিয়ন্ত্রণ অভিযান। লক্ষ্য ছিল, দেশের জনসংখ্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে ৬০ লক্ষাধিক পুরুষকে জোর করে বন্ধ্যাকরণ করা হয়। এ অভিযান ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
পুলিশ গ্রাম ঘিরে ফেলত এবং দরিদ্র পুরুষদের ধরে এনে বন্ধ্যাকরণ করানো হত বলে অভিযোগ। ছোটবেলা থেকেই সঞ্জয়ের মনোযোগ ছিল প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ওপর। ইংল্যান্ডে রোলস-রয়েস প্রতিষ্ঠানে তিনি অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৭৬ সালে পাইলট হিসেবে লাইসেন্স পান এবং অ্যারোবেটিক চালনায় তাঁর দক্ষতা ছিল। এই আগ্রহ তাঁর ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উইকিলিকসের নথি অনুযায়ী, ইন্দিরা গান্ধী ছেলে সঞ্জয়কে কখনো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেননি। তবু জরুরি অবস্থার সময় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এবং কংগ্রেসের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার দায়িত্ব সঞ্জয়ের হাতে ছিল।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক উত্থান ও বিতর্কিত ভূমিকা:

আরও পড়ুন:

দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ১৯৭৫ সালের জুনে ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এরপর সঞ্জয় গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু। জরুরি অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধী নাগরিক অধিকার স্থগিত করেন এবং কয়েক হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার করেন বলে অভিযোগ। ওই সময় সঞ্জয় কার্যত মায়ের উপদেষ্টার ভূমিকা নেন এবং ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। ওই সময় (জুন ১৯৭৫-মার্চ ১৯৭৭) নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রভাব আরও বাড়াতে বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি গ্রহণ করেন সঞ্জয়। ‘স্টপ অ্যাট টু’ ছিল সঞ্জয় গান্ধীর পাঁচ দফা কর্মসূচির একটি। অন্য চারটি ছিল গাছ লাগানো, সাক্ষরতা বাড়ানো, বিয়েতে পণ বা যৌতুকের বিরুদ্ধে লড়াই ও বর্ণব্যবস্থার বিলুপ্তি।
সঞ্জয়ের আরেকটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ছিল ভিড়ভাট্টা ও দরিদ্র মানুষের বসতি উচ্ছেদ। কিছু এলাকাকে নগর উন্নয়নের পথে বাধা মনে করতেন তিনি। ফলে পুরোনো দিল্লির বহু বাড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন, যার মধ্যে জামা মসজিদ ও তুর্কমান গেটের এলাকাগুলোও ছিল। দিল্লিই ছিল এসব উচ্ছেদের প্রধান কেন্দ্র। তবে গুজরাট, হরিয়ানা-সহ আরও কয়েকটি রাজ্যে একই অভিযান চালানো হয়। তুর্কমান গেটে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত হন। ১৯৭৭ সালে গঠিত জাস্টিস জে.সি শাহ তদন্ত কমিশন জানায়, অন্তত ৬ থেকে ২০ জন নিহত হন। পুরো অভিযানে লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। শাহ কমিশন এই উচ্ছেদ অভিযানকে জরুরি অবস্থার সময় সরকারের করা ‘সবচেয়ে বড় মাত্রার অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যবহার’ বলে মন্তব্য করে।
ব্যঙ্গাত্মক চলচ্চিত্র ‘কিসসা কুর্সি কা’ (একটি সিংহাসনের কাহিনি) ধ্বংসের ঘটনাতেও সঞ্জয় সরাসরি জড়িত ছিলেন। ‘কিসসা কুর্সি কা’ ১৯৭০-এর দশকে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক চলচ্চিত্র, যা ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডকে ব্যঙ্গ করেছিল। সঞ্জয় চলচ্চিত্রটির প্রিন্ট পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:

সঞ্জয় গান্ধী | জীবনী, কংগ্রেস পার্টি, ইন্দিরা গান্ধী, জরুরি অবস্থা, এবং  মৃত্যু | ব্রিটানিকা
১৯৭৮ সালে জরুরি অবস্থা শেষে, চলচ্চিত্রটি পুনরায় চিত্রায়িত হয় ও মুক্তি পায়। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টে চলচ্চিত্র ধ্বংসের ঘটনায় মামলা হয়েছিল। মামলায় আদালত সঞ্জয় গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছর কারাদণ্ড দেন। বিচার চলাকালীন তিনি এক মাস কারাগারে ছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে খালাস পান।
বিতর্কিত নানা পদক্ষেপের কারণে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী হেরে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন। তবে ১৯৮০ সালে কংগ্রেস আবার জয়ী হয় এবং সঞ্জয় গান্ধী লোকসভার সাংসদ হন। তিনি দেশের রাজনীতিতে মায়ের পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। ১৯৮০ সালের মে মাসে, মৃত্যুর ঠিক এক মাস আগে, তিনি তাঁর মায়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস (আই) দলকে ৯টি রাজ্যে নির্বাচনের মধ্যে আটটিতে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আরও পড়ুন:

সঞ্জয় গান্ধীকে স্মরণ করা: ভবিষ্যতের নেতা যিনি খুব তাড়াতাড়ি মারা গেছেন -  ইন্ডিয়া টুডে
হত্যাচেষ্টা ও নিরাপত্তাঝুঁকি:

আরও পড়ুন:

সঞ্জয় গান্ধী রাজনৈতিক জীবনে তিনবার হত্যাচেষ্টার সম্মুখীন হন। মার্কিন দূতাবাসের এক নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে অজ্ঞাত হামলাকারী সঞ্জয় গান্ধীকে নিশানা করেছিল। একই বছরের আগস্টে তাঁকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি করা হয়, তবে তিনি গুরুতর আহত হননি। এ ঘটনা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেয়। হত্যাচেষ্টার পেছনে দায়ী করা হয় ‘বহিরাগত শক্তি’কে। হত্যাচেষ্টার এই তথ্য উইকিলিকস প্রকাশ করার আগে ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের মধ্যেই সীমিত ছিল এবং জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পরও কোনো তদন্তে প্রকাশ পায়নি।

আরও পড়ুন:

বিমান দুর্ঘটনার দিন:

আরও পড়ুন:

২৩ জুন ১৯৮০-এর সেই সকালে, সঞ্জয় গান্ধী সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে কুর্তা-পায়জামা ও কোলাপুরি চপ্পল পরে সফদরজং বিমানবন্দরে পৌঁছন। তিনি নিজের প্রিয় স্টান্ট বিমানের ককপিটে ওঠেন। সামনের আসনে ছিলেন প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন সুভাষ সাক্সেনা। সঞ্জয়ের এটি চালানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের। তবু নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে বিমানটি আকাশে ওড়ে। অর্থাৎ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সঞ্জয় আকাশে স্টান্ট শুরু করেন। কিন্তু বিমান যথাযথ উচ্চতায় পৌঁছাতে না পারায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ডানা নিচে গাছে ধাক্কা খায়। উড়ানের মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে সকাল ৮টা ১০ মিনিট বিমানটি নয়াদিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবনের কাছেই বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন সঞ্জয় গান্ধী ও ক্যাপ্টেন সাক্সেনা। জানা যায়, তাঁর মৃত্যু মাথায় আঘাতের কারণে হয়েছে।
ইন্দিরা গান্ধী নিজের অফিসেই ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে শুধু বিমানের ধ্বংসস্তূপই দেখতে পান। কংগ্রেস নেতাদের মতে, সঞ্জয় ছিলেন ইন্দিরার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান। তাই এই মৃত্যু তাঁর পরিবারের জন্য ছিল এক গভীর আঘাত। সঞ্জয়ের মৃত্যুতে ইন্দিরা ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু প্রকাশ্যে বিষয়টি দেখাননি। রাজনীতিবিদদের ধারণা, যদি সঞ্জয় গান্ধী অকালেই মারা না যেতেন, তবে কংগ্রেসের বর্তমান ও দেশের রাজনৈতিক চিত্র হয়ত ভিন্ন কিছু হত।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:

আরও পড়ুন:

বিমান দুর্ঘটনায় সঞ্জয় গান্ধী নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় কংগ্রেস-ইউ দলের আর.পি যাদব ১৯৮০ সালের ১১ অক্টোবর একটি চিঠি প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, তৎকালীন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা ও বিরোধী রাজনীতিক নানাজী দেশমুখ একজন উগ্র হিন্দু মেকানিককে বিমানের ইঞ্জিনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করতে প্ররোচিত করেছিলেন। ওই মেকানিক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর সদস্য ছিলেন।
অভিযোগ ওঠে দলের বিহারের সদস্য আর.পি সারাঙ্গী দলীয় সভাপতি অটল বিহারী বাজপেয়ীকে চিঠিটি লিখেছিলেন। তবে তিনি চিঠি লেখার অভিযোগ অস্বীকার এবং যাদবকে ‘চরিত্রহানি’ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। কীভাবে চিঠির ওই ফটোকপি পেয়েছেন, সেটি যাদব বলেননি। আর বাজপেয়ী বলেছিলেন, তিনি কখনো চিঠিটি পাননি এবং অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য সরকারিভাবে তদন্তের দাবি করেন।

আরও পড়ুন:

30 বছর ধরে নিখোঁজ সঞ্জয় গান্ধীর মূর্তি, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে কংগ্রেস  খুঁজে বের করল - ওড়িশাপোস্ট
রাজনৈতিক বিতর্ক আরও গভীর হয় যখন সঞ্জয়ের মৃত্যু নিয়ে বিজেপির সাবেক রাজ্যসভা সাংসদ সুব্রামনিয়াম স্বামী ২০১৮-১৯ সালে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সোভিয়েতরা বিমানে ফাটল তৈরি করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল এবং সোনিয়া গান্ধী তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা কেজিবির এজেন্ট ছিলেন। সুব্রামনিয়ামের অভিযোগ, সোভিয়েত ইউনিয়ন সোনিয়ার সুবিধার জন্য সঞ্জয়কে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
সোনিয়ার বাবাও কেজিবির একজন এজেন্ট ছিলেন, যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বন্দী করার পর সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়োগ করেছিল বলে অভিযোগ করেন স্বামী। সুব্রামনিয়াম স্বামী টুইট করেছিলেন, ‘শেষ পর্যন্ত টিডিকে-কে সুবিধা দেওয়ার জন্য সোভিয়েতরা তাঁর (সঞ্জয়ের) বিমানে একটি ফাটল তৈরি করে এবং তাঁর জীবন শেষ করে। বিমানটি আশোকা হোটেলের কাছে বিধ্বস্ত হয়, কিন্তু বিস্ফোরিত হয়নি। কেন?’
সঞ্জয় গান্ধীর স্ত্রী মানেকা গান্ধী ও ছেলে ফিরোজ বরুণ গান্ধী জীবিত ছিলেন। দুজনই পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সঞ্জয় মাত্র ৩৩ বছর বয়সে চলে গেলেও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর প্রভাব আজও অম্লান। তাঁর অকালমৃত্যু দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারা বদলে দেওয়ার একটি মুহূর্তও।
সঞ্জয় গান্ধী বেঁচে থাকলে হয়ত কংগ্রেসের নেতৃত্ব, দলের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য ও নীতিনির্ধারণের রূপ ভিন্ন হত। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভাই রাজীব গান্ধী উঠে আসেন নেতৃত্বের কেন্দ্রে। সঞ্জয়ের মৃত্যু-রহস্য, হত্যাচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আজও বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সব মিলিয়ে, কীভাবে একজন নেতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি পুরো দেশের রাজনৈতিক গতিপথ গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে, সেটিই মনে করিয়ে দেয় সঞ্জয়ের জীবন ও মৃত্যু। (ঋণ স্বীকার: প্রথম আলো)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder