ওয়াহদাতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরার অধিবেশন

নতুন পয়গাম, সহারানপুর, ১৫ সেপ্টেম্বর:
ওয়াহদাতে ইসলামী হিন্দের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন হয়েশ গেল দিল্লিতে। ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর এই অধিবেশনে দেশ, মিল্লাত এবং অন্যান্য সামাজিক ও মানবিক সমস্যাবলী নিয়ে চিন্তা ভাবনার পর নিম্নলিখিত প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হল।
ওয়াকফ সংক্রান্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়েছে, এগুলোর ব্যবস্থাপনা অবশ্যই ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং এদের ওপর সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমস্ত বেআইনি দখলদারিত্ব দূর করা আবশ্যক। সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পর্কিত জারি করা অন্তর্বর্তী আদেশ ন্যায়বিচারের দাবি পূরণ করে না এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও উদ্বেগ, আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী ও গণহত্যামূলক কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করছে, এই সন্ত্রাস ও আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ইসরাইলকে অবশ্যই দখলকৃত এলাকা থেকে অবিলম্বে সরে যেতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ফিলিস্তিনিদের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। এই মুহূর্তে বিশ্বের ন্যায়প্রিয় ও গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের দায়িত্ব হল, ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলমান বুলডোজার অভিযানের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ধর্ম গ্রহণ ও ত্যাগের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক চাপ বিষয়ে অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবে ধর্ম গ্রহণ ও ত্যাগ সংক্রান্ত আইনের পক্ষপাতমূলক প্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও ঘৃণার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। ধর্ম গ্রহণ বা ত্যাগ করা প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীন মৌলিক মানবাধিকার।
ওয়াহদাতে ইসলামী হিন্দ এও বলেছে, সংগঠনের প্রয়োজনে কেবল সেইসব ব্যক্তির থেকে সহযোগিতা নেওয়া হবে, যাদের আয়ের উৎস হালাল ও পবিত্র। বিদেশি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করা হবে না।
দেশে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রস্তাবে পারস্পরিক সহনশীলতা ও কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তাদের আহ্বান, মুসলিমরা যেন সবসময় অমুসলিমদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত ও পক্ষপাতহীন আচরণ করে। মুসলিমরা যেন সব বিভাজন দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ বা আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার-এর দায়িত্ব পালনে সর্বোত্তম ভূমিকা রাখে। কারণ, আল্লাহ এবং রাসূল (সা.) আমাদেরকে এই শিক্ষাই দিয়েছেন।




























































































































