মুর্শিদাবাদ জেলা ভাগের জোরালো দাবি ‘জেলা সংগ্রাম সমিতি’র

নতুন পয়গাম, জঙ্গিপুরঃ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিন দিনের সফরে মুর্শিদাবাদে পৌঁছেছেন। আর তাঁর সফর ঘিরেই আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে জেলা ভাগের দাবি। দীর্ঘদিন ধরেই জেলার উত্তর প্রান্তের মানুষের এই দাবিকে সামনে রেখে সক্রিয় রয়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘জেলা সংগ্রাম সমিতি’। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন শুরু থেকেই প্রশাসনিক সুবিধার কথা তুলে ধরে জঙ্গিপুর মহকুমাকে কেন্দ্র করে ‘উত্তর মুর্শিদাবাদ’ নামে নতুন জেলা গঠনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
মুর্শিদাবাদ রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম জেলা—জনসংখ্যা ও আয়তন, দু’দিক থেকেই বিশাল। ফলে জেলার দূরবর্তী এলাকার মানুষদের প্রশাসনিক কাজের জন্য বহরমপুরে আসতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সেই কারণেই জেলার উত্তর প্রান্তের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নতুন জেলা গঠনের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, জঙ্গিপুর মহকুমা অঞ্চলকে নতুন জেলা ঘোষণা করা হলে সেই অঞ্চলে মেডিকেল কলেজ, জেলা প্রশাসনের দপ্তর (ডিএম অফিস), ভূমি দপ্তর, জেলা আদালত, গার্লস কলেজ, ডিআই অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, পিএফ অফিসসহ একাধিক অত্যাবশ্যক পরিষেবা দ্রুত ও সহজলভ্য হবে। পাশাপাশি উন্নত রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সুযোগে দাবি পৌঁছে দিতে জেলা সংগ্রাম সমিতির সেক্রেটারি হাসানুজ্জামান বাপ্পা ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচি পালন করেন রঘুনাথগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে। এই অনশন মঞ্চে উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলার দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বহু সচেতন নাগরিক উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে কি না জানতে চাইলে হাসানুজ্জামান বাপ্পা জানান, “না, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়নি। সুযোগ মিলবে বলে মনে হয় না। তাই আমরা গতকাল অনশন মঞ্চ থেকেই তাঁকে বিস্তারিত ইমেইল করেছি। তাঁর চিফ সেক্রেটারিকেও দীর্ঘ ইমেইল করে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
অনশন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি বিরাট বন্দ্যোপাধ্যায়, আব্দুর রাহেদ, জুম্মা খান, নুরেল মাস্টার, আলী রেজা, নজরুল ইসলাম, মনতাজ শেখ, সাবেকুল শেখ, সৌমেন মুখার্জি, মাসুদ, বাবু সারওয়ার জাহান, আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।





























































































































