কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয়

দৈনিক জনকণ্ঠ, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলপি: ক্রীড়া জগতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বরাবরই আলাদা গুরুত্ব রেখেছে। এই জেলার কুলপি ব্লকের বেলপুকুর পঞ্চায়েতের রাঙাফলা গ্রামের দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্ম নাসিফার। বাবা শফিউল্লা জমাদার প্রান্তিক কৃষক। মা সিদ্দিকা খাতুন আশাকর্মী। তিন মেয়ের মধ্যে বড় নাসিফার ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি ভীষণ আগ্রহ। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন ভোর থেকে অলিতে গলিতে দৌড় প্র্যাকটিস করত। প্রাইমারির পাঠ শেষ করে নাসিফা কাকদ্বীপ বামানগর হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হয়।
খেলাধুলার সুযোগ না পাওয়ায় করঞ্জলী গার্লস স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয় নাসিফা। সেখান থেকে খেলাধুলার প্রথম ধাপ শুরু হয়। পরে গাজীরমহল হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে উত্তর ২৪ পরগনার অ্যাডামাস থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ হন। এর মাঝে অনেকের সহযোগিতায় কলকাতার এক অ্যাথলিক পোর্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্র্যাকটিস করেন নাসিফা। এভাবেই এগিয়ে চলে তার জয়যাত্রা। মা সিদ্দিকা খাতুনও খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্নাতক স্তরে হাইজাম্প, লংজাম্প ও দৌড়ে তিনবার মেডেল পেয়েছিলেন। কিন্তু সেভাবে নিজেকে ঠিকমতো মেলে ধরতে পারেনি। তাই মায়ের চোখে মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন অপূর্ণ ছিল, যে তার মেয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করুক। মায়ের সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। সদ্য অনূর্ধ্ব ২৩ এশিয়ান অ্যাথলিটে চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণপদক ও ভারতের হয়ে চীনে গিয়ে ৪০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক পেয়ে বাড়ি ফিরলেন সোনার মেয়ে রাঙাফলার নাসিফা। আজ সে বাবা-মায়ের নাম উজ্জ্বল করেনি, উজ্জ্বল করেছে এলাকা, রাজ্য তথা দেশের নামও। তাই সে শুধু রাঙাফলা গ্রামের গর্ব নয়, গোটা দেশের গৌরব। বিদেশ থেকে সোনা জয় করে গ্রামে ফিরতে তাকে দেখার জন্য আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ কুলপির বেলপুকুরে এসে জড়ো হন। তাকে ফুলের স্তবক দিয়ে বরণ করার পর স্মারক ও মেমেন্টো দিয়ে সম্বর্ধনা জানিয়ে আশীর্বাদ করেছেন এলাকার গুণীজনেরা।





















































































































