আতশবাজি থেকে গরিব রথ এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড?

নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ১৯ অক্টোবর:
রেলে অন্যান্য দুর্ঘটনার খতিয়ান বাদ দিলেও দেখা যাচ্ছে প্রতি বছর শুধুমাত্র অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই প্রচুর। বছরে গড়ে প্রায় ১৫ বার চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগেছে। ২০১৭ থেকে ২১ সালে সারা দেশে ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৫৭টি। রেল যাত্রীদের প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। এছাড়া এসব অগ্নিকাণ্ডের জেরে রেলের সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে ১৫ কোটি টাকারও বেশি। শনিবার পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে বিহারগামী গরিব রথ এক্সপ্রেসে আগুন লাগে। তবে এতে প্রাণহানি না হলেও আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী। আর তাই চর্চায় উঠে এসেছে ক্যাগের এ সংক্রান্ত রিপোর্ট।
তবে শুধুমাত্র অগ্নিকাণ্ডের খতিয়ান প্রকাশ করা নয়। রিপোর্টে বিভিন্ন দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেসে ট্রেনের নন-এসি কোচে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও রেলমন্ত্রককে সতর্ক করেছিল ক্যাগ। বলা হয়েছিল, বহু ট্রেনের নন-এসি কোচে অগ্নি নির্বাপণের যথাযথ ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থাই নেই। শনিবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামগ্রিক বিষয়কে তাই অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করা হচ্ছে। গরিব রথ এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল। দীপাবলি এবং ছটপুজো উপলক্ষে ওই ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলেন যাত্রীদের বড় অংশ। প্রশ্ন উঠছে, তাদের একটি অংশের মালপত্রের সঙ্গে কি আতশবাজিও ছিল? তা থেকেই কি আগুন লেগেছে? যদি সঙ্গে আতশবাজি থেকে থাকে, তাহলে তাদেরকে এরকম দাহ্য পদার্থ নিয়ে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হল কেন? রেল পুলিশ ও রেল কর্মীদের নজরদারিতে গাফিলতি বা উদাসীনতার প্রশ্নও জোরাল হচ্ছে।
এদিকে রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, উৎসবের মরশুমে ভিড় সামলাতে সারা দেশে ১২ হাজারেরও বেশি স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে। কিন্তু এত ট্রেনে নজরদারি চালানোর মতো পর্যাপ্ত কর্মী বা পুলিশ রেলের আদৌ আছে কি? রেলে লক্ষ লক্ষ পদ এমনিতেই শূন্য পড়ে রয়েছে বহু দিন থেকে। আসলে যাত্রীদের নিরাপত্তা বা সুরক্ষা নিয়ে কেউ ভাবে না। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়। দুর্ঘটনা ঘটলে কয়েকদিন প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়, তদন্ত কমিটি গড়া হয়, হতাহতদের কিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে ঝামেলা মিটিয়ে নেওয়া হয়। রেল আবার সেই তিমিরেই রয়ে যায়।
























































































































