BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

দেশে দেশে গণঅভ্যুত্থান ও তার পরিণতি

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৩ | আপডেট: ৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৩

মজিবুর রহমান

আরও পড়ুন:

বিশ্বের মানচিত্রে ভারতের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো হল ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপাল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা এই দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শেষোক্ত তিনটি দেশে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন ঘটেছে এবং সরকারের কেষ্ট-বিষ্টুরা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
সিংহল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হয় ১৯৪৮ সালে এবং ১৯৭২ সাল থেকে শ্রীলঙ্কা নামে পরিচিত হয়। ২ কোটি ২০ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কার দুটি প্রধান ভাষিক জনগোষ্ঠী হল সিংহলি ও তামিল। এই দুই ভাষার মানুষ দেশটির জনসংখ্যার ৭০ ও ২৫ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সিংহলীদের একাধিপত্য ও তামিলদের বঞ্চনা শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অশান্তির অন্যতম প্রধান উৎস। তামিলদের অধিকার দাবি-দাওয়া পৃথক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে পরিণত হয়। ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ যায়। ২০১৯ সালে সংসদ নির্বাচনে বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে এসএলপিপি। কিন্তু শাসকদল ও সরকারে পরিবারতন্ত্র ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে রক্তের সম্পর্কে ভাই। এছাড়াও তাঁদের পরিবারের আরও অন্তত পাঁচ জন মন্ত্রী ছিলেন। রাজাপাকসেদের পারিবারিক শাসনে শ্রীলঙ্কার সার্বিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রীর তীব্র অভাব দেখা দেয়। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় দেশের ছাত্র-যুবরা রাজাপাকসে পরিবারকে উৎখাত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়। সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা, কারফিউ জারি ও সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ২০২২-এর মার্চে শুরু হওয়া গণআন্দোলন জুলাইয়ে চরম পরিণতি লাভ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয় দখল করে নেয়। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে ও রাষ্ট্রপতি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁদের ঘনিষ্ঠ বা পক্ষীয় লোকেরাই আরও দু-বছর সরকার পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজাপাকসে পরিবার তথা এসএলপিপি-র প্রভাবমুক্ত জেভিপি সরকার গঠিত হয়। বামপন্থী রাষ্ট্রপতি অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে ও প্রধানমন্ত্রী হরিণী অমরাসুরিয়ার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি এখন কিছুটা ভাল।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ তথা বঙ্গ বিভাজনের সময় বাংলার মাটি রক্ত-রঞ্জিত হয়। পাকিস্তান গঠনের অব্যবহিত পরেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ববঙ্গে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারি ইতিহাস রচিত হয়। বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জনের পথ ধরেই বাঙালিদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তান তোলপাড় হতে থাকে। ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের আগস্টে সেনাকর্তাদের হাতে সপরিবারে খুন হন। সামরিক শাসক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামরিক অভ্যুত্থানেরই বলি হন ১৯৮১ সালের ৩০ মে। ১৯৮৩-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন অপর সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তারপর থেকে প্রধানমন্ত্রী হন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অথবা মুজিবুর রহমানের কন্যা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বয়কট করে। আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেয়। ২০২৫ সালের ৫ জুন বাংলাদেশের হাইকোর্ট সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জন্য ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের পক্ষে রায় দেয়। ছাত্র সমাজের একাংশ এই রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। হাসিনা সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। সুপ্রিম কোর্ট ১০ জুলাই হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় এবং ৭ই আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে। ছাত্র আন্দোলনে বিরক্ত হয়ে ১৪ই জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিরা সংরক্ষণ পাবে না তো কি রাজাকারদের বংশধররা পাবে?” তাঁর এই মন্তব্য অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দেয়। ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সেই মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনকে গণ অভ্যুত্থানের পথে পরিচালিত করে। ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ সংরক্ষণ নির্ধারণ করে। ২৩ জুলাই সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
সংরক্ষণ হ্রাস করা হলেও আন্দোলন স্তিমিত হয়নি। কারফিউ জারি করে, সেনা নামিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিধ্বংসী আন্দোলনে কমবেশি দুশো ছাত্র, সাধারণ মানুষ-সহ কয়েকজন পুলিশ নিহত হন। প্রচুর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও যানবাহনের ক্ষতিসাধন হয়। কয়েদিরা জেল থেকে পালিয়ে যায়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকার সংবিধান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার সাধনের কাজ করছে। ১৭.৫ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ মুসলমান আর ৯৮ শতাংশ বাংলাভাষী।

আরও পড়ুন:

নেপাল রাষ্ট্র গঠিত হয় ১৭৬০-এর দশকে। শাসনব্যবস্থা ছিল রাজতান্ত্রিক। ১৯৯০ সাল থেকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জোরদার সহিংস আন্দোলন শুরু হয়। ২০০১ সালের ১ জুন কাঠমাণ্ডুর নারায়ণহিতি রাজপ্রাসাদে ক্রাউন প্রিন্স দীপেন্দ্র গুলি চালিয়ে রাজ পরিবারের নয় সদস্যকে হত্যার পাশাপাশি নিজেও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করেন। এর পর নেপালে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে। ২০০৮ সালে নেপালের সংসদ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে এবং দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পথে নেপালকে ধারাবাহিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নয়জন ব্যক্তির নেতৃত্বে ১৪ বার সরকার গঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে কে.পি শর্মা ওলি তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। সরকারের সঙ্গে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে। নেপালের তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। ৮ সেপ্টেম্বর এক সমাবেশে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কে.পি শর্মা ওলি পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী-সহ অন্যান্য মন্ত্রীদের বাসভবন, সংসদ ভবন বিক্ষোভকারীদের দখলে চলে যায়। ১০ সেপ্টেম্বর দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে ৮১ শতাংশ হিন্দু। বাকিদের বেশিরভাগই বৌদ্ধ। অর্থনীতি মূলত পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল। নেপালের অধিকাংশ যুব শক্তি ভারত-সহ অন্যান্য দেশে শ্রমিকের কাজ করে দিন গুজরান করেন।
জনসংখ্যা, ভাষিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংখ্যার নিরিখে ভারতের অবস্থা পূর্বোক্ত দেশগুলোর থেকে অনেকটাই আলাদা। ভারতের জনজীবনে যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা উপরোক্ত দেশগুলোতে নেই। ভারতীয় সমাজ অনেকগুলো স্তর নিয়ে গঠিত। অর্থনৈতিক কাঠামোও বহুস্তরীয়। রাজনৈতিক দলের সংখ্যা অজস্র। কোনো বিশেষ আর্থ-সামাজিক অথবা রাজনৈতিক ঘটনা দেশের সব মানুষকে সমানভাবে আন্দোলিত করে না। এদেশে ‘যত মত তত পথ’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবন ও জগতকে দেখা হয়। সরকার কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে মানুষের অভাব নেই। সমর্থন বা বিরোধিতা কখনও একপেশে হয় না। সরকারি পলিসি ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মিটিং, মিছিল, পথ অবরোধ, অনশন, ধর্মঘট ইত্যাদি কর্মসূচি পালনের বিস্তৃত পরিসর রয়েছে। এজন্য ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হওয়ার সুযোগ কম। সরকার পরিবর্তনের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। আইনসভা, বিচারবিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ সংবিধান নির্ধারিত গণ্ডিকে মান্যতা দিয়ে চলে। কিছু সমালোচনা থাকলেও ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী। বিগত আট দশকে ভারতের কোনো সরকার বা শাসকের বিরুদ্ধে সামরিক কিংবা গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। আজও জাতীয় অথবা আঞ্চলিক স্তরে ‘দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া’ গিয়া সরকারকে উৎখাত করার জন্য অভ্যুত্থান ঘটানোর মানসিকতা তৈরি হয়েছে বলে মনে হয় না।

আরও পড়ুন:

ভারতে ছাত্র সমাজ সাধারণত ক্যাম্পাস রাজনীতির মধ্যেই নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখে। কোনো গণআন্দোলনে তাদেরকে গণহারে অংশগ্রহণ অথবা নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়নি। তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে লাগামছাড়া দুর্নীতি, স্বজনপোষণ কিংবা রেকর্ড বেকারত্ব নিয়ে কোনো স্মরণীয় লড়াইয়ের জন্ম দিতে পারেনি। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যুগে ভারতের জনগণ শিক্ষিত-অশিক্ষিত, সৎ-দুর্নীতিগ্ৰস্ত, আদর্শবাদী-সুবিধাবাদী, সাম্প্রদায়িক-সেক্যুলার দলের প্রতি অনুগত-দলবদলু প্রভৃতি পরস্পর বিপরীতমুখী চরিত্রের রাজনীতিকদের মধ্যে সেভাবে বাছবিচার করে না, প্রায় সকলকেই সমদৃষ্টিতে দেখে। কাজেই শাসকের কোনো গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত বা দুষ্কর্ম সহ্য করতে না পেরে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে অথবা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অপশাসনের অবসান ঘটানোর সম্ভাবনা খুবই কম। অশিষ্ট ভাষায় বললে, এখানে ”পাবলিকের মার কেওড়াতলা পার” হবে না।
তাই শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ অথবা নেপালের ঘটনায় উচ্ছ্বসিত হওয়ার খুব কারণ আছে বলে মনে হয় না। ছাত্র-তরুণ ও যুবদের মধ্যে আবেগ বেশি থাকলেও অভিজ্ঞতা কম। তারা উত্তেজিত হয়ে ভাঙতে পারলেও সংযম বজায় রেখে গড়তে জানে না। রাষ্ট্র পরিচালনার মতো পরিপক্কতা তাদের নেই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন হতেই পারে, কিন্তু সরকার পরিবর্তন ভোটের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি আকস্মিক আন্দোলনে বহু মানুষের মৃত্যু ও প্রচুর সম্পত্তি ধ্বংস করাটা যৌক্তিক নয়।
(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder