কৃষ্ণনগরে পিআইবির ‘বার্তালাপ’ সাংবাদিক কর্মশালা

নতুন পয়গাম, কৃষ্ণনগর:
নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হল প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র নিয়মিত কর্মসূচি ‘বার্তালাপ’। এই জেলা-স্তরের সাংবাদিক কর্মশালার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল গ্রামীণ ব্যাংকিং-এ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ করা হয়। পিআইবি-র পূর্বাঞ্চলীয় মহাশির্দেশক শ্রী টি.ভি.কে. রেড্ডি একটি চারাগাছ রোপণ করেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পিআইবি-র অতিরিক্ত মহানির্দেশিকা (এম অ্যান্ড সি) মিস জেন নামচু এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শ্রী রেড্ডি উদ্বোধনী বক্তব্যে পিআইবি-র কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের সঠিক তথ্য জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সংস্থার প্রধান দায়িত্ব। তিনি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় পিআইবি-র ভূমিকার কথাও স্মরণ করান।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার শ্রী অনুপ ডুংডুং প্রধানমন্ত্রীর জনধন যোজনার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মাছ চাষিদের ঋণ পেতে সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দেন।
নাবার্ড-এর আধিকারিক শ্রী শৈকত দে অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণদাতাদের হাত থেকে কৃষকদের মুক্ত করতে আর্থিক সাক্ষরতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি নিরাপদ ব্যাংকিং-এর জন্য ১৬০ ও ১৪০ কোডের মাধ্যমে আসল ব্যাংক কল চেনার পরামর্শ দেন এবং জানান, নদিয়ায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের সঙ্গে মিলে পাঁচটি আর্থিক সাক্ষরতা কেন্দ্র চালানো হচ্ছে।
ডাঃ দেবদূত ঘোষ ঠাকুর স্বচ্ছ ভারত ও পরিচ্ছন্ন জেলা প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি আর্সেনিক বিষক্রিয়ার মতো জনস্বাস্থ্য সমস্যার উল্লেখ করে প্রচলিত স্থানীয় জল সংরক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে আর্সেনিকমুক্ত জল সরবরাহের উদাহরণ দেন এবং দেশীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পিআইবি জানায়, এ ধরনের কর্মশালা নিয়মিত জেলা পর্যায়ে আয়োজন করা হয়, যাতে স্থানীয় সাংবাদিকরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হন এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করতে পারেন।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে প্রশ্নোত্তর পর্বের পাশাপাশি পিআইবি-র কার্যক্রম ও জেলা সাংবাদিকতার ভূমিকার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা হয়। শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সকলে একমত হন যে, নীতিগত সাফল্য টিকিয়ে রাখতে সমাজের সাথে নিরন্তর যোগাযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।





















































































































